নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) উপ-নির্বাচন: প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগম আসন-টি

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) উপ-নির্বাচন: প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগম আসন-টি


জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগম হয়ে উঠেছে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের জনপদ। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবে পরিণত হয়েছে শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল গুলোতে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। প্রতিদিনই নির্বাচনী এলাকার পাড়া-মহল্লায় চলছে মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা। আর পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকা। এতে করে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে নওগাঁ-৬ আসনটি।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন হেলাল এর পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা ও বিএনপি’র মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু’র পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা জোরেশোরে প্রচার প্রচারণা করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন এ আসনের দুই প্রার্থী নিজেরাই ও তাদের লোকজন।

এছাড়াও এ আসনে ন্যাশনাল পিপলস্ পাটির ইন্তেখাব আলম রুবেল আম মার্কা নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তাকে মাঠে বেশি দেখা যাচ্ছে না হটাৎ মটাৎ তার প্রচারণা চলছে এলাকায়। এ আসনে প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নৌকা ও ধানের শীষের প্রতীকের প্রচার-প্রচারণায় মুখর এই আসনের জনপদের অলিগলি। সব জায়গাতেই বইছে নির্বাচনী আমেজ। তবে এ আসনে নৌকার অবস্থান মোটামুটি ভাল।

উপ-নির্বাচনে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর ) আসনে নৌকার প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন হেলাল, ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, এছাড়াও আম মার্কা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ন্যাশনাল পিপলস্ পাটির ইন্তেখাব আলম রুবেল। এ আসনে তিন প্রার্থীর চলছে লড়াই।

প্রার্থীদের পদচারনায় মুখোরিত হয়ে উঠেছে এ আসনের জনপদ। পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন সভা এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভোটাদের কাছে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা নিজেই ও তাদের নেতাকর্মীরা। সেই সঙ্গে প্রত্যন্ত গ্রামের অভিমানী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে কুশলাদি বিনিময়, অসুস্থদের সাথে সাক্ষাৎ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে এই আসনে ভোটের আমেজ ততই বাড়ছে। এ আসনের দুটি উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন মোট ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন।

জানা গেছে, নওগাঁ-৬ আসনে ১৯৯১ ও ৯৬ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমান। ২০০১ সালে পুনরায় আলমগীর কবীর বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রয়াত ইসরাফিল আলম। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষের দিকে আলমগীর কবির এলডিপিতে যোগ দেন। একই বছরে এলডিপি থেকে পদত্যাগ করেন।

২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন ইসরাফিল আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরের ছোট ভাই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু। এরপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরকে পরাজিত করে আবারো বিজয়ী হন ইসরাফিল আলম। মূলত এ আসনটি চারবার বিএনপির অধীনে থাকলেও ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।

এক সময় এ দুই উপজেলায় জঙ্গী ও সর্বহারা এলাকা হিসেবে পরিচিত থাকলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অনেকটায় নিয়ন্ত্রনে ছিল এ আসনটি। তবে জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনের সময় কোন ধরনের প্রাণহানী চাননা এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতনরা। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই এই আসনের এমপি ইসরাফিল আলম মারা গেলে আসনটি শুন্য ঘোষণা করে আগামী ১৭ অক্টোবর ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে নির্বাচন কমিশন।

নওগাঁ-৬ আসনে আসন্ন উপ-নির্বাচন নিয়ে এলাকার সাধারণ, তরুণ ও নতুন ভোটারদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর সেবা পেতে তারা বিশ্বাসী। যারা দুর্নীতি, অনিয়ম, মাদক ও সকল বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে আগামী দিনের নেতৃত্ব দিবেন এলাকার উন্নয়ন করবেন ও যাকে তারা যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করবেন তাকেই তারা ভোট দিবেন বলে জানিয়েছেন।

বার্তা প্রেরক
আব্দুল মজিদ মল্লিক
নওগাঁ প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন